আজ: ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

ইবিতে সরস্বতী পূজা উদযাপিত

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাণী অর্চনা শ্রদ্ধা ভক্তি আর বিদ্যার দেবীর আরাধনায় উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে।আজ রোববার স্বরস্বতি পূজা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মালবম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অবস্থিত প্রার্থনালয়ে পূজা অর্চনা,প্রতিমা স্থাপন,দেবী অর্চনা ও পুস্পাঞ্জলি,প্রসাদ বিতরণ এবং আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়।

সকাল থেকেই শীত উপেক্ষা করে সেঁজেগুজে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সনাতনী সম্প্রদায়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় এ উৎসবে জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন।অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর পাদপদ্মে প্রণতি জানানোর পাশাপাশি মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও হয়েছে দেবীর প্রসাদ বিতরণ।

এদিকে পূজা পাঠ শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ইবি শিক্ষার্থী ব্রজেন দাশ ও প্রিয়াংঙ্কা কুন্ডুের সঞ্চালনায় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায় এর সভাপতিত্বে এক ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন- উর- রশীদ আসকারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ,সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক তপন কুমার জোয়াদ্দার,আইন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল প্রমুখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুখালী ফরিদপুরের শ্রী শ্রী মাহাপ্রভু বিগ্রহ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রী অপুর্ব মাধব দাস বাবাজী মহারাজ এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. রাশীদ আসকারী,সরস্বতী শব্দের উৎপত্তি ও অর্থ বিশ্লেষণ করে এর বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক দিক তুলে ধরেন।


এসময় তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,ধর্মকে আমরা অন্য ধর্মের ক্ষতি করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে একে সাহায্যের অস্ত্র হিসেবে মানবকল্যানে ব্যবহার করবো।ধর্মের যে মহত্বের দিকগুলো আছে সেগুলো পারস্পরিক সমন্বয় সাধন করে বাংলাদেশকে একুশ শতকের দেশ গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আমরা যদি ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা না করি তাহলে আমাদের এক একটি শিক্ষার্থী আইএস,উগ্র জাতী হিসেবে গড়ে উঠবে।তিনি আরো বলেন,আমরা আন্ত:ধর্ম সম্পর্ক উন্নয়ন করে ধর্ম যার যার দেশ আমার এই স্লোগানকে সামনে রেখে একুশ শতকের উপযোগী আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবো।

উল্লেখ্য মধ্যাহ্নভোজন শেষে দিনব্যাপী এ আয়োজনের তৃতীয় পর্যায়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী সাধারণ মানুষ উপভোগ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •