আজ: ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

আগামীতে দেশের জ্বালানি পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক। বাংলা লাইভ ২৪

শতভাগ আমদানি নির্ভর হয়ে যাচ্ছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। প্রত্যক্ষ আমদানি নির্ভরতার চেয়ে পরোক্ষ আমদানি নির্ভরতার প্রবণতায়ই বেশি। এতে কোনো কারণে বিপর্যয় দেখা দিলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বেকার সমস্যাও দেখা দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশের সব বড় প্রকল্পই এখন আমদানি নির্ভর জ্বালানির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশীয় জ্বালানি নির্ভর প্রকল্পগুলোও ধীরে ধীরে আমদানি নির্ভরতার দিকেই যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আগামীতে দেশের জ্বালানি পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হচ্ছে। যেসব বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আসছে, সেগুলো আমদানি করা কয়লা ও গ্যাসে চালাতে হবে। এতে খরচও বেশি হবে। চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বড় বড় প্রকল্প চলমান আছে।

আরও প্রকল্প তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিপাকে পড়বে দেশের বিদ্যুৎ খাত। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ২০৪০ সাল নাগাদ শতভাগ আমদানি নির্ভর হয়ে উঠবে দেশের জ্বালানি খাত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিজেরা চেষ্টা না করে, শতভাগ আমদানি নির্ভরতার দিকে চলে যাওয়া হবে ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপজ্জনক। আর এ নিয়ে উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টানা হলেও সে যুক্তিকে একেবারেই খোঁড়া বলছে সরকার।

বিশাল আকারের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ হাব আশুগঞ্জ। যেখানে শতভাগ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে দেশীয় গ্যাস। কিন্তু ধীরে ধীরে চাপ এবং সরবরাহ কমতে থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যে পূরণ করতে হিমশিম খেতে হয় প্রায়ই। বন্ধ রাখতে হয় কোনো কোনো কেন্দ্র।

তারপরও এ এলাকাকে ঘিরেই ভবিষ্যতের জন্য নেয়া হচ্ছে গ্যাসভিত্তিক আরও বড় বড় প্রকল্প। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ হাব ঘিরে গ্যাস সরবরাহের প্রত্যাশা থাকলেও অন্য কেন্দ্রগুলোর ভবিষ্যৎ আটকে আছে আমদানি করা জ্বালানিতে। কারণ, গ্যাস খাতের মহাপরিকল্পনা বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানিতে বিদেশি নির্ভরতা থাকবে প্রায় ৯২ শতাংশ।

যা ২০৪০ সালে গিয়ে দাঁড়াবে শতভাগে। এ সময় কোনো কারণে আমদানি বিপর্যয় হলে প্রকল্প বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে এ খাতে কর্মরতরা বেকার হয়ে যাবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখনই আমদানিকে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে না নিয়ে বরং আরও চেষ্টা করা উচিত দেশের ভেতরে সম্পদ অনুসন্ধানের।

বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোলেও চাহিদা আর উৎপাদনে গড়মিল থেকেই যাচ্ছে। এতে করে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিজস্ব নির্ভরতা অপরিহার্য। ইতোমধ্যেই ভারত থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। যা দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের তুলনায় দাম অনেক বেশি।সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে না তুলে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে অতিমাত্রায় ভারত নির্ভরশীল করা হচ্ছে। যা এক সময় মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

অপরদিকে সরকার কোনোভাবেই রেন্টাল আর কুইক রেন্টাল থেকে বের হতে পারছে না। এতে করে বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোলোও এই পরিকল্পনার গোড়ায় গলধ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এতে পর্যায়ক্রমে বিদুতের উৎপাদন বাড়লেও জ্বালানি আমদানিও বাড়ানো হয়েছে। অবস্থা এমন যে, ২০৪০ সালে তা শতভাগে দাঁড় করানো হয়েছে। এতে করে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।