আজ: ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

ওসি মোয়াজ্জেমের মামলা তদন্তে পিবিআই

সোহেল খান, বাংলা লাইভ ২৪ ।

ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের প্রাক্তন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে ফেসবুকে লাইভকারী আলোচিত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতে জবানবন্দিতে আইনজীবী সুমন বলেন, ‘নুসরাত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে আলোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। নুসরাতকে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়। যৌন হয়রানির বিষয়ে নুসরাত অভিযোগ করলে আসামিসহ তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেই সময় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে জেরা করেন৷ ওই জেরার ভিডিও ওসি মুঠোফোনে ধারণ করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পরের দিন গত ১১ এপ্রিল বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন তিনি।’

সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন ঘটনা আর একটিও ঘটেনি। ওসি সাহেব তার রুমে এমন ঘটনা ঘটান। সারা বাংলাদেশ জানে এর চাইতে আর বড় ধরনের উদাহরণ হতে পারে না। থানার ভেতরে এমন ভিডিও ধারণ করা ও সম্প্রচার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ। এই ঘটনার পরে ভিকটিম বেঁচে গেলেও তার বেঁচে থাকাটা কঠিন হয়ে যেত। গত ১১ এপ্রিল ইউটিউবে এ ভিডিও দেখতে পাই, অশ্লীল কিছু তথ্য ধারণ করে ইউটিউব/সোস্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে ভিকটিমের সম্মানহানি হয়েছে।’

এদিকে মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ মার্চ মেয়েটিকে অধ্যক্ষ তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠলে তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন অধ্যক্ষ এবং ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যান। ওই সময় ওসি নিয়মবহির্ভূতভাবে জেরা করতে করতেই অনুমতি ব্যতিরেকে রাফির বক্তব্য ভিডিও করেন। পরবর্তীকালে ওই ভিডিও ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি অত্যন্ত অপমানজনক এবং আপত্তিকর ভাষায় নুসরাতকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। এমনকি ভিডিওর এক পর্যায়ে দেখা যায়, রাফিকে বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেছে কি না সে কথা ওসি জিজ্ঞেস করেন, যা অত্যন্ত মানহানিকর।

তিনি অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য গত ৬ এপ্রিল মুখোশ পরা ৪/৫ জন ছাত্রী রাফিকে চাপ প্রয়োগ করলে রাফি মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তার গায়ে আগুন দিয়ে মুখোশ পড়া ছাত্রীরা পালিয়ে যায়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রাফি মারা যায়।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনুমতি ব্যতিরেকে নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে এবং অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করে মানহানি করেছেন, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বাদী মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 10
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।