আজ: ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

পাইকগাছায় সজিনার বাম্পার ফলনের আশায় চাষীরা

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু: খুলনার পাইকগাছায় মৌসুমের শুরুতেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লবণ অধ্যুষিত উপজেলায় সজিনার ভাল ফলনের আশা করছেন সজিনা চাষী ও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ সজিনার গাছ রয়েছে। বহুগুনে গুনান্বিত যাদুকারি সবজি সজিনা। ঔষুধি গুনাগুনেভরা, সুস্বাদু, কোনো উৎপাদন খরচ নেই, অধিক লাভজনক এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন সবজি সজিনা।

শীতের রিক্ততা কাটিয়ে এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ। মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছি আর সজিনা ফুলে আকৃষ্ট হচ্ছে পথিক।

পুষ্টিসমৃদ্ধ মৌসুমি সবজির মধ্যে সজিনা অন্যতম, যা দেশের সবত্রই পাওয়া যায়।

ড্রামস্টিক, মরিঙ্গাসহ দেশ-বিদেশে সজিনা বহু নামে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে সজিনা নামেই পরিচিত। সজিনার বহুবিধ ঔষুধি গুনাগুন রয়েছে।

পুষ্টি বিশেজ্ঞদের মতে সজিনাতে অ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ডপেইন, ব্লাডপেসার, কিডনিতে পাথর ধ্বংস, মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরাসহ বিভিন্ন ঔষুধি গুনাগুন রয়েছে।

সজিনা গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন উদ্ভিদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুণ সম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনা গাছকে যাদুর গাছ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এক বেসরকারি সংস্থা নবলোকের প্রকাশিত ‘নিউট্রিশন ফ্যাকটর অফ মরিঙ্গা লিপ’-এ উল্লেখ করা হয়েছে সজিনার পাশাপাশি সজিনা পাতা পুষ্ঠি ঘাটতি পুরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

এতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক বিদ্যমান। শরীরে কোলস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে, হজমের সাহায্য করে, শরীরে পুষ্ঠি ও শক্তি যোগায়, বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং সজিনার গুড়ার পেষ্ট ত্বকের জন্য উপকারী ও লিভার এবং কিডনি সুরক্ষিত রাখে।

আমাদের দেশে সজিনা সচারাচর দু’ধরণের হয়ে থাকে, মৌসুমি এবং বারমাসি। বারমাসি জাতের তেমন বেশি আবাদ না হয়ে থাকলেও মৌসুমি জাতের বেশিরভাগ আবাদ হয়ে থাকে।

এসব নানাবিধ গুনের কারনে প্রতিবছর দেশে প্রায় সবস্থানে প্রচুর পরিমানে সজিনার চারা ও ডাল রোপণ করা হয়।

একক কোনো চাষাবাদ কোথাও না হলেও প্রতিটি অঞ্চলে অন্যান্য ফসল আবাদের অনুপযোগী যেমন ক্ষেতের আইল, ঘেরের বাঁধ এবং রাস্তার দু’পাশ দিয়ে মৌসুমি সজিনার আবাদ রয়েছে।

সজিনা চাষে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে খুলনার পাইকগাছা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ২০১৮ সালে উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ৪ হাজার সজিনার ডাল রোপণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে ৭ হাজার ৯৫০ টি ডাল রোপণ করা হয়। যার মধ্যে বারোমাসী সজিনাও রয়েছে। পৌরসভা সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সজিনার চাষ হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, পুষ্টি গুন দিক থেকে সজিনা অত্যান্ত উপকারী একটি সবজি।

সজিনা লবণ সহিষ্ণু একটি ফসল। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রে পরিচর্যার প্রয়োজন হলেও অনেকটা পরিচর্যা ছাড়াই সজিনার উৎপাদন সম্ভব।

সজিনা অল্প দিনেই খাওয়ার উপযোগী হয় এবং বাজারজাত করা যায়। খেতে সুস্বাদু ও বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় সজিনার আবাদ অত্যান্ত লাভ জনক। সজিনা চাষে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে প্রতিবছর সজিনার ডাল রোপণ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •