আজ: ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

ভাগ্য উন্নয়নে আদালতের দরজায় গ্রামপুলিশ

বাংলা লাইভ ডেস্ক |
সাপ্তাহিক থানা প্যারেডে গ্রামপুলিশ বাহিনী

গ্রামপুলিশ শব্দটির সাথে গ্রাম থাকার কারণেই কি তারা অবহেলায় আছেন? এমন প্রশ্ন বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যদের মনে। সারা মাস দিনে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করেও গ্রামপুলিশ সদস্যরা পাচ্ছেন না শ্রমের উপযুক্ত মূল্য। সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর বেতন ভাতা ও রেশন বৃদ্ধি পেলেও গ্রামপুলিশ বাহিনীর বেতন ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় নাই। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৪৬ হাজার গ্রামপুলিশ সদস্যদের মধ্যে মহল্লাদার পান ছয় হাজার ৫০০ টাকা এবং দফাদার পান সাত হাজার টাকা। যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের অনুপাতে পর্যাপ্ত না। তাই উপযুক্ত বেতন ভাতার দাবীতে তারা আদালতে রিট দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন: গুজব শেয়ার দিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ

পুলিশ সপ্তাহ পালনে গ্রামপুলিশ সদস্যরা

গ্রামপুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করে। গ্রামীণ পর্যায়ের কোনো অপরাধীকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত থানা পুলিশ সহযোগিতা করেন। কিছু ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন অপরাধ ও অপরাধীদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ পূর্বক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। বাল্য বিবাহ, জঙ্গি ও মাদক নির্মূলেও গ্রামপুলিশ সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়া উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ইউনিয়ন ও ইউনিয়নের বাইরে ছোট বড় বিভিন্ন দায়িত্বে গ্রামপুলিশ সদস্যরা অংশ নিয়ে থাকেন। দিনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে রাতে নিরাপত্বার দায়িত্ব পালন করেন গ্রামপুলিশ সদ্যরা।

আরও পড়ুন: বিএনপির গণশুনানি গণতামাশা ছাড়া কিছুই না: কাদের

অসূস্থ দরিদ্রদের স্বাস্থ্য সেবায় বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সাথে গ্রামপুলিশ

অপর্যাপ্ত বেতন পাওয়ার ফলে অনেক সময় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়ে গ্রামপুলিশ সদস্যদের। সৌখিন পোশাক পরার সুযোগ পান না তারা। পরিবারের সব চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। আদরের সন্তানদের যুগপযোগী সুবিধা দেয়া প্রায় অসম্ভব বিষয় মনে করেন তারা। পিতামাতার ভরণপোষণ, সংসার পরিচালনা এবং সন্তানদের ভালো মানের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্রামপুলিশ সদস্যরা মাসে যে টাকা বেতন পান তাতে প্রতি মাসে ধার দেনায় ডুবতে হয়। চাকুরি শেষে এককালীণ সামান্য কিছু টাকা পেলেও চাকুরিতে অবস্থানকালীণ দূর্ঘটনা কবলিত হলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারি কোনো আর্থিক সাহায্য দেয়া হয় না।

নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় গ্রামপুলিশ

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আলাপ হয় রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মো: উজ্জল খান এর সাথে। তিনি বাংলা লাইভ টোয়েন্টিফোর কে জানান, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনীতে মহল্লাদার পদে যোগদান করার সময় মাসিক বেতন ছিলো এক হাজার ৪০০ টাকা। একজন দফাদার মাসিক বেতন পেতেন তখন এক হাজার ৬০০ টাকা।

আরও পড়ুন: ২৪ ফেব্রয়ারিু গণশুনানির প্রাধান বিচারক হবে ড. কামাল

তিনি আরও জানান, ২০১১ সালে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মহল্লারদের বেতন হয় এক হাজার ৯০০ টাকা এবং দফাদাদের বেতন হয় দুই হাজার ১০০ টাকা। এরপর ২০১৬ সালে মহল্লাদারদের বেতন এক হাজার ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয় তিন হাজার টাকা এবং দাফাদারদের বেতন এক হাজার ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয় তিন হাজার ৪০০ টাকা। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে মহল্লাদারদের বেতন তিন হাজার ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ছয় হাজার ৫০০ টাকা এবং দফাদারদের বেতন তিন হাজার ৬০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয় সাত হাজার টাকা। এটাই ছিলো সবচেয়ে বড় আকারে বেতন বৃদ্ধি।

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে গ্রামপুলিশ বাহিনী

আদালতের রিট দায়ের করার বিষয়ে বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনী রিট বাস্তবায়ণ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি মো: উজ্জল খান এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনী রিট বাস্তবায়ণ কেন্দ্রিয় কমিটির পক্ষ থেকে ৫৫ জন সদস্য ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখ বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনীকে রাজস্ব খাতে অন্তভূক্তিকরণ ও চতুর্থ শ্রেণির জাতীয় বেতন স্কেলের দাবীতে হাইকোর্টের ২১ নম্বর বেঞ্চে ১৭২৫৮/১৭ নং রিট দায়ের করেন।

মহান বিজয় দিবসের প্যারেডে গ্রামপুলিশ সদস্যরা

আদালতে রিটের প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয় ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে। রিটের শুনানিতে আদালত গ্রামপুলিশ বাহিনীকে কেনো রাজস্ব খাতে অর্ন্তভূক্ত করা হবে না ও চতুর্থ শ্রেণির জাতীয় বেতন দেয়া হবে না মর্মে সংশ্লিষ্ট ৩২টি দপ্তরকে চার সপ্তাহের সময় দিয়ে রুল জারী করেন। রিট দায়ের করার প্রায় এক বছর পর সর্বশেষ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে সর্বশেষ গ্রামপুলিশ বাহিনীর বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার কারণে বৃদ্ধি বেতন গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা পাচ্ছেন না। দায়েরকৃত রিটটি আদালতে চলমান রয়েছে।

পুলিশ সপ্তাহ পালনে মহিলা গ্রামপুলিশ সদস্যরা

গ্রামপুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ মে থেকে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদ্যদের যাতায়াত ভাতা বাবদ প্রতি মাসে এক হাজার ২০০ টাকা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু দেশের কিছু উপজেলার গ্রামপুলিশ সদস্যদের যাতায়াত ভাতা দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে গ্রামপুলিশ সদস্যরা যাতায়াত ভাতা প্রদানের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে কারণ জানতে চাইলে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নাই বলে জানান।

আদালতে রিট দায়েরের ফলে ভাগ্যের পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনী। এছাড়াও মানবিক দিক বিবেচনায় গ্রামপুলিশদের ভাগ্য উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সদয় দৃষ্টিপাত করবেন। এমনটাই বিশ্বাস রয়েছে গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাঝে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 1.9K
  •  
  •  
  •