আজ: ২৩শে মে, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

আত্মহত্যা কেন? কেবল মৃত্যুই মুক্তির পথ নয়

তাসনিমুল হাসান, ইবি প্রতিনিধি

আত্মহত্যা কখনোই কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না, যদি তাই হত তাহলে মানুষ যানা সত্যেও যে তার ক্যান্সার সে এই পৃথিবীতে আর কয়েকটা দিনের অতিথি তবুও সে আর কিছুটা দিন বাচাঁর আসায় হাসপাতাল এর বিছাইনায় জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যেতো না , সেও বেচেঁ থাকার আসা ছেরে দিয়ে কোন এক ছাদ থেকে আছড়ে ফেলতো তার দেহটাকে অথবা কোন এক পাখার রশিতে পেঁচিয়ে দিতো তার গলা আউর ঝুলিয়ে রাখতো তার নিথর দেহটি, আর করে দিতো নিজের হাতে তার জীবনের সমাপ্তি।

জীবন অনেক সুন্দর। এই জীবনের পরিসিমাও হয়ত অনেক কম। জীবন সংসারে মান অভিমান দুঃখ কষ্ট ভালোবাসায় আত্যহত্যার মত ভুল কি আসল সমাধান? মুক্তির পথ? জীবনকে ভালোবাসুন। কথাটি লিখার পিছনে কারন হলো কিছুূদিন আগে একটা খবর শুনতে পেলাম প্রেমিকার ভালোবাসা না পেয়ে প্রেমিক আত্যহত্যা করেছে।

তাই বলছি ভাই আপনি যাকে ভালোবাসেন মনের গবির থেকে একটি বার কি কখনো পরিক্ষা করে দেখেছেন সে আপনাকে কতটুকো ভালোবাসে। বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই একটু দুরে সরে গিয়ে দেখেন তো সে কি করে সে যদি আপনাকে সত্যিকারে ভালোবেসে থাকে তাহলে সে কোন দিন ঐ দুরে থাকতে পারবে না। মনে রাখবেন ভালোবাসা হলো জলন্ত আগুনের শিখা তার শুরো হয় ভালবাসা দিয়ে আর শেষ হয় ছায় দিয়ে।

বয়সের কারোনে আমরা অনেকেই ভুল ডিছিসন নিয়ে ফেলি, রাগ টা কন্ট্রল করতে পারি না।কিন্তু এটা দিয়ে তো কোন সমাধান হয় না।আমি বা আপনি মরে গেলে পৃথিবীর কারো কিছু যায় আসে না।কেউ মনে ও রাখবে না কিছুদিন পর। ছেলেটা সুইসাইড করলো। মাদক, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক কলহ, অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্খাক্ষার কারণে তরুণ-তরুণীরা অধিক হারে আত্মহত্যা করছেন। আরে পাগোল তুমি তো পজেটিভলি নিতে পারতা,আরে মনে করো অই মেয়ে তো তোমার যোগ্য ই ছিল না। তুমি বেচে থেকে দেখিয়ে দিতে পারতা যে তুমিও পারো,আর যে জীবন তুমি নষ্ট করলে,,শেষ করে দিলে একবার ও ভাবলা না এ জীবন টা তোমার একার না,তোমার বাবা মায়ের অধিকার আছে,তাদের তুমি কি দিলা?

একটা রিলেশন ব্রেকআপ কখনো জীবনের শেষ না।এখান থেকেই জিদ নিয়ে তুমি তোমার লাইফ টাকে ভালোভাবে শুরু করতে পারতে।হয়তো তুমিই হতে পারতে দেশের ১০ জন এর একজন।কিন্তু তুমি সুইসাইড করলে, যারাই আছেন এভাবে ব্রেকাপ এর পর সুইসাইড নিয়ে ভাবছেন বা নেশা করে জীবনটাকে শেষ করে দিচ্ছেন,, প্লিজ বন্ধ করুন,বি পজেটিভ,এখান থেকে শুরু করো,একদিন আপনি ই পারবেন।

প্লিজ স্টপ। আর না।।।

প্লিজ কোন কিছুকে নেগেটিভলি না নিয়ে পজেটিভলি ভাবুন,,,লাইফ এ তো খারাপ সময় আসবেই এটা সবার ই আসে,,।এটাকেই জয় করতে হবে কিসের এতো ডিপ্রেশন??? ক্যনো??
ক্যনো এই ছোট জীবনটাকে এতো কঠিন করে ফেলছেন?

প্লিজ সহজ ভাবে দেখুন সব কিছু।।
ব্রেকাপ হয়েছে,বা জব হচ্ছে না,,
সো হট,আবার শুরু করুন,,,। রেজাল্ট খারাপ হয়েছে,, ভালো ভার্সিটি তে এডমিট হতে পারলেন না, তো কি হইছে? তাকান চার পাশে দেখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা বেকার আছে আবার ন্যাশনাল থেকে পাশ করাও ম্যাজিস্ট্রেট আছে।

তারা পারলে আপনি ক্যনো পারবেন না একবার ভাবুন প্লিজ আর সুইসাইড না,আর না কোন তারার ছন্দপতন।

আত্মহত্যা কখনো কোন সমাধান দিতে পারে না। দুই একজন মানুষ তোমাকে ভালবাসে না, বা কেউ তোমাকে পছন্দ করেনা, খুব বড় অন্যায় করেছ কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবা না ভাবছ,তাই আত্যহত্যা কে সমাধান ভাবছ? বিশ্বাস কর এটা কোন সমাধান না।তোমাকে কেউ পছন্দ করে না কিন্তু কেউ একজন নিশ্চয় তোমাকে খুব মিস করে, আরে মার কথা বলছি, না হোক বন্ধু রা তো মিস করবে। প্লিজ আত্যহত্যা করার আগে একবার প্রিয় মানুষ আর এই সুন্দর দুনিয়া টার কথা একবার ভাব, উপরওয়ালা কত সুন্দর করে বানিয়েছেন। আর মৃত্যুর পর তোমার এই সুন্দর শরীর টা কি বিভতস করে কাটাছেড়া করবে ভাবতে পারবা শুধু ডাক্তার জানে কতটা মর্মান্তিক এটা।

বাংলাদেশ এ প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন মানুষ আত্যহত্যা করছে, একটু সামান্য কাউন্সেলিং একটা জীবন বাচাতে পারে।আর একটা প্রাণ ও যেন নষ্ট না হয়।আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করি, তাহলে আত্মহত্যার হার কমানো সম্ভব।

লেখক: তাসনিমুল হাসান (প্রান্ত)

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 291
  •  
  •  
  •