আজ: ২৩শে মে, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

অর্থাভাবে কি থেমে যাবে শাহীনের চিকিৎসা?

আশিকুর রহমান ।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রূপালী বেগম চার সন্তানের জননী।

স্বামীকে হারিয়েছেন বছর দশেক আগেই। ৪ এতিমকে নিয়েই সংসার জীবনে যুদ্ধ শুরু তার। সহায় সম্বল তেমন কিছুই নেই। এ বাড়ি ও বাড়ি টুকটাক কাজ করে ছেলেদের বহু কষ্টে বড় করছিলেন।

তৃতীয় সন্তান নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাহীনুর রহমান শাহীন। পিএসসি তে পেয়েছিলেন জিপিএ ফাইভ। তারপর নিজের চেষ্টায় জেএসসি পরিক্ষায় ও অনেক ভাল ফলাফল করেছিলেন শাহীন ৷ হটাৎ করেই মাস দুয়েক আগে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, শুধু অসুস্থ নয় পুরো বাম পার্শ্ব অচল হয়ে গেল, ঘাড় থেকে শুরু করে হাত পুরো অচলাবস্থা।

রক্তদানে সারজিল হাসান

সহায় সম্বলহীন মা পড়ে গেলেন মহাবিপাকে, ছেলেকে নিয়ে গেলেন ফুলপুর উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ডাক্তাররা শাহীনের মাকে পরামর্শ দিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে যত দ্রুত সম্ভব নার্ভ অপারেশন করাতে। টাকা পয়সা হাতে না থাকায় অসহায় মা ফিরে এলেন হাসপাতাল থেকে। এরই মধ্যে একগাদা টেস্ট, পরিক্ষা নিরিক্ষা দিলেন ডাক্তাররা।

এর সাথে ডাক্তার জানিয়ে দিলেন অপারেশন করতে লাগবে নূন্যতম ৫০,০০০ টাকা। এ যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল মায়ের মাথায়। এই যুগে হয়তো পঞ্চাশ হাজার টাকা তেমন বড় কোনো এমাউন্ট না।

কিন্ত যে পরিবারের তিন বেলা ভাত জুটে না, কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয় তাদের কাছে এটা বিশাল একটা এমাউন্ট।

গ্রামে এসে এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য তোলা শুরু করেন। যা এসেছে খুবই অল্প বা নগন্য এই টাকা দিয়েই এতদিনের ওষুধ পরিক্ষা নিরিক্ষা করে শেষ। পুরো খালি হাতে বসে আছেন অসহায় মা ছেলেকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের ৩৩নং ওয়ার্ডের পাঁচ নাম্বার বেডে।

শাহীনের মা বলেন, ডাক্তার অপারেশন করাতে বললেও টাহার অভাবে করাতে পারতাচি না। এতো টাহা কই পাইবাম।

এদিকে শাহীনের রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় এগিয়ে আসে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুর সাড়ে তিনটায় দুই ব্যাগ রক্তদান করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালন বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিল হাসান ও তানভীর আহমেদ তুহিন।

রক্তদানে তুহিন

রক্তের পাশাপাশি প্রয়োজন অতিদ্রুত আর্থিক সহযোগিতা। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্থ সহযোগিতা আহ্বান করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু আনাস রিপন। কয়েকজন এগিয়ে আসলেও এ পরিমাণ অর্থে চিকিৎসা সম্ভব নয়।

আসুন আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই এই এতিম ছেলেটির দিকে, আমার আপনার ছোট ছোট সাহায্যে ভাল একটা এমাউন্ট হবে৷ সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ হবে শাহীনের, দূর হবে অসহায় বিধবা মায়ের কস্ট। বেচে থাকবে কিশোর শাহীনের স্বপ্ন, শাহীনের মায়ের স্বপ্ন। সাহায্য পাঠাতে পারেন এই নাম্বারে। বিকাশ -০১৯২৮-১৮৫৯১৬ রকেট – ০১৭৭৭৯৯৬৫০৩ ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •