আজ: ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীকে সাংবাদিকের খোলা চিঠি, উদ্দেশ্য ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক যন্ত্র

এম.এম আকাশ আহম্মেদ সোহেল, মাদারীপুর ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সদের আধুনিক যন্ত্রপাতি দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে মোঃ আজমানুর রহমান নামে এক সাংবাদিক।

তিনি শনিবার (৩০ মার্চ) তার ফেসবুক পেজে চিঠিটি পোস্ট করেন।

চিঠিতে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সমাজের সত্য প্রকাশে ও সমাজের প্রতিটি মানুষের ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষে অস্ত্র হিসাবে কলম হাতে তুলে নিয়েছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আজ এমন একটা বাহিনীকে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষে কলম তুলে নিয়েছি। যারা কিনা মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেশের মানুষকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ, আগ্নি কান্ডের মতো বিভিন্ন দূর্ঘটনার থেকে বীরের মতো নিজেদের জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করে আমি আজ আপনাকে তাদের কথাই বলছি।

লেখার শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত আমাদের জন্মভূমির ইতিহাসখ্যাত বাঙ্গালীর রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। বলতে চাই গোপালগঞ্জ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান।

আপনি হয়তো অবগত আছেন ১মে আপনাকে স্বরণ করিয়ে দেই আজ থেকে ৯ বছর আগে ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক কারখানায় অগ্নিকান্ডে প্রান হারিয়েছিল শতাধিক মানুষ। তাদের উদ্ধার করতে নিজেদের জীবন বাজি রেখে পরিবার পরিজন এর কথা ভুলে কাজ করছিলো যে বাহিনী আমি বলছি তাদের কথা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গত ২১শে ফেব্রুয়ারী চকবাজার ট্রাজেডিতে নিহত হন শিল্প মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিটি মোতাবেক ১১০ জন।
নিহতদের পাশাপাশি আহতের উদ্ধার করতে নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এক অাধারে দীর্ঘ ১৫ ঘন্টা উদ্ধার কাজ চালিয়ে ছিলো। উদ্ধার তৎপরতা চালাতে অগ্নিকান্ডের মধ্যে সেই ভয়ানক ভবনে প্রবেশ করে যে বাহিনী আমি বলছি তাদের কথা।

এইতো সেদিন বনানীর এফ,আর টাওয়ার অগ্নিকান্ডে উদ্ধার কাজ করতে আমরা সবাই একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে দেখতে পেয়েছি যে কিনা আগুনের ভিতর পাইপ বেয়ে নিজের জিবনের তুয়ারকা না করে ১২ তলায় গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
২০১২ সালের মেঘনায় লঞ্চ ডুবে গিয়েছিলো। শত শত মানুষ নিখোঁজ ছিল। সেদিন উদ্ধার কাজ করার জন্য বিভিন্ন বাহিনী এসেছিলো নানারকম যন্ত্রপাতি নিয়ে তবে তারা উদ্ধার কাজে ব্যার্থ হয়েছিলো। সেই সময় হাজির হয়েছিলো রুগ্ন লিকলিকে শরীরের ফায়ার সার্ভিসের এক ডুবুরি। এক একটা ডুবে ২টা করে লাশ তুলে ছিলো। কিছু সময়ের মধ্যে সে ৩০/৩৫ টা লাশ উদ্ধার করেছিলো। সে নিজের জিবনকে বিপন্ন করে উদ্ধার করতে গিয়েছিলো নদীর তলদেশে।

শুধু কী চকবাজার ট্রেজেডি, বনানী এফ আর টাওয়ার!

একের পর এক লঞ্চডু‌বি, রানা প্লাজায় ভবন ধ্বস, তাজরীন, নিমতলী সবই দেখেছেন।

অনেক বা‌হিনী‌কে দে‌খে‌ছি কাজ ক‌রে বা না ক‌রে কৃ‌তিত্ব নি‌য়ে‌ছেন। কিন্তু প্র‌তিটা ঘটনায় দে‌খে‌ছি ফায়ার সা‌র্ভিসের সদস্যরা জীব‌নের ঝুঁ‌কি নি‌য়ে নিরলসভা‌বে কাজ করছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
বাংলা‌দে‌শের ফায়ার সা‌র্ভি‌সের প্রতিটা সদস্যকে আমার বীর ম‌নে হয়। মনে হয় এরা মুক্তিযোদ্ধাদের থেকে কোনো অংশে কম নয়। অন্য অনেক বা‌হিনীর মতো আধু‌নিক যন্ত্রপা‌তি বা পেশাদা‌রিত্ব থে‌কে হয়তো তারা অনেক পি‌ছি‌য়ে, কিন্তু ফায়ার সা‌র্ভি‌সের প্রতিটা সদস্য তা‌দের মমত্ববোধ নিয়ে, মানব‌প্রেম নি‌য়ে, নিরলস চেষ্টা নি‌য়ে সবার থে‌কে এগি‌য়ে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনি হয়তো চকবাজা‌র ট্রেজেডির উদ্ধার কাজ সম্পূর্ণের পর ফায়ার সা‌র্ভিসের কিছু সদ‌স্যদের একটা ছ‌বি দে‌খে‌ছেন যেখা‌নে দেখা যায়, অভিযান সম্পন্ন করার পর তারা এতটাই ক্লান্ত যে, গাড়ির সামনের আসনে এমন কী গাড়ির ছাদেও ঘুমাচ্ছিলেন।

যে কথা না বললে নয় আজ এই বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল, এই ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার আপনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আপনি নিশ্চয় আবগত আছেন, যে আমার বীর ভাইয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে নিজেদের জিবনের মায়া ত্যাগ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে,তবে তারা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা পাচ্ছে না। পাচ্ছে না নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে একটি স্বেচ্ছাসেবক তহবিল খোলার নির্দেশ দেন। আমরা সারা দেশের মানুষ সেই তহবিলে টাকা জমা দিব। যে যা পারি তাই দিব, দেশের মানুষের টাকায় আগুন নেভানোর আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে এবং আমার বীর ভাইদের তাদের বেতনের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের মতো বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহযোগীতা করে একটু হলেও তাদের পাশে দাড়াতে পারবো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
নিজদের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পেরেছি তাহলে নিজেদের টাকায় আগুন নেভানোর আধুনিক যন্ত্র কিনতে পারবো না কেন, কেন পারবো না বীর ভাইদের পাশে দাঁড়াতে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তৃতীয় বিশ্বের একজন অসহায় সাংবাদিকের ফরিয়াদ পৌঁছানোর উপায় হয়তো একমাত্র গণমাধ্যমই। আমার এই ফরিয়াদ আপনার কাছে আদৌ পৌঁছাবে কিনা, এই লেখাটি আপনি পড়বেন কিনা, আপনাকে কেউ বলবে কিনা, আপনার টেবিলের দৈনন্দিন পেপার ক্লিপিংয়ে এর স্থান হবে কিনা আমি জানি না। তবু কবি কামাল চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত পক্তিমালা’ কবিতা ‘তুমি পড়বে না জানি তবু এই চিঠি পাঠিয়ে দিলাম’ স্মরণ করে এই লেখাটি লিখছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি গোপালগঞ্জ জেলার ঐতিহায্যবাহী চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের সন্তান। পেশায় একজন কলম সৈনিক।

আপনার কাছে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
আপনি জানেন শুরু থে‌কেই নানা সংক‌টে কাজ কর‌তে হ‌য়ে‌ছে ফায়ার সার্ভিসের বীর ভাইদের। গত ক‌য়েকবছ‌রে প্র‌তিষ্ঠান‌টির সক্ষমতা অ‌নেক বাড়লেও বর্তমা‌নে স্থান, জনবল ও আধু‌নিক যন্ত্রপা‌তির সংকট আছে এই বিভা‌গে। পাচ-ছয় ঘন্টা ধরে আগুনে জ্বলা দেশ উন্নয়নের রোল মডেল দেশের সাথে খুব বেশিই বেমানান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমি আপনার কাছে আমার বীর ভাইদের জন্য উদ্ধার কাজের জন্য মানের যন্ত্রপাতি ও বীর ভাইদের অার্থিক সহযোগীতা চাই এবং তাদের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবক তহবিল খোলার জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

আশা করি এই সাংবাদিক ছোট ভাইটির আবেদনে সাড়া দিয়ে আপনি বীর ভাইদের কথা ও দেশের নিরাপত্তার কথা ভেবে সঠিক ব্যবস্থা নিয়ে আরেকটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবেন। পরিশেষে আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে এবং জাতীর পিতার আত্নার মাগফিরাত কামনা করে আপনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অপেক্ষায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 149
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান