আজ: ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

রাজবাড়ী জেলার আখ চাষীরা সময় মতো পাচ্ছেন না পাওনা টাকা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: ফরিদপুর সুগার মিলস লি: এর আওতাধীন রাজবাড়ী জেলার অধিকাংশ আখ চাষী সময় মতো তাদের ন্যায্য পাওনা টাকা পাচ্ছেন না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন ভিত্তিক আখ ক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে চাষীরা আখ সরবরাহ করলেও মিলছে না পাওনা টাকা। রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিনের আখ চাষীরা এ অভিযোগ করেন।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের আখ চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায় ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত আলীপুর আখ ক্রয় কেন্দ্রে তারা আখ সরবরাহ করেন। কিন্তু আজ অবধি তারা সরবরাহকৃত আখের মূল্যের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের আখ চাষী লিয়াকত আলী শেখ এর পূত্র টোকন শেখ বলেন, “আমি আমার বাবার জমিজমা দেখাশুনা করি এবং চাষের কাজে বাবাকে সহযোগিতা করি। বর্তমান মৌসুমে আমি যে পরিমাণ আখ সেন্টারে (আখ ক্রয় কেন্দ্র) দিয়েছি, তার টাকা এখনো পুরোপুরি পাই নাই। তিন কিস্তিতে মাত্র ৭ হাজার টাকা মতো পেয়েছেন তিনি। যা আমার পাওনা মোট টাকার ৫ ভাগের ১ ভাগ মাত্র।

একই ইউনিয়নের চাষি সোনাউল্যাহ শেখ এর পূত্র আতিকুল ইসলাম টিটু জানান, তিনিও মোট পাওনা টাকার খুব সামন্য পরিমাণ এ পর্যন্ত পেয়েছেন। টাকা না পাওয়ার কারণে চাষের কাজে খরচ করা মূলধন তিনি ঘরে তুলতে পারেন নাই। ধার দেনা করে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আখ চাষে খরচ করেছিলেন, সে সকল পাওনাদারেরা প্রতিনিয়ত টাকার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করছেন।

সময় মতো আখ চাষীদের টাকা না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আলীপুর আখ ক্রয় কেন্দ্রের সিডিএ অচিন্ত কুমার নাগ জানান, বৃহৎ আখ চাষীদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র চাষীদের ৩০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আগামি ৬ মে ২০১৯ তারিখ থেকে টাকা না পাওয়া চাষীদের মাঝে পূণরায় টাকা বিতরণ শুরু হবে। যা আসছে ঈদ-উল-ফিতর পর্যন্ত চলবে। এতে টাকা না পাওয়া চাষীদের ৮০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হতে পারে। বাকী ২০ শতাংশ টাকা কবে নাগাদ দেয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেন নাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুর সুগার মিলস লি: এর এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন কর্তৃক চাষীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে ব্রাজিল থেকে প্রায় ১ লক্ষ মেট্রিন টন চিনি বাংলাদেশে আমাদানি করা হয়। যার আমদানী মূল্য প্রায় ৪ শত কোটি টাকা। আমদানী করা চিনি দেশের বাজারে বিক্রি করতে না পারায় চাষীদের টাকা সময় মতো পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্রাজিল থেকে যে দামে চিনি আমদানি করা হয়েছে বাংলাদেশে তার বাজার মূল্য তুলনামূলক অনেক কম। যে কারণে সময় মতো চিনি বিক্রি করা সম্ভব হয় নাই। বর্তমানে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি করা চিনি বিক্রি করা হচ্ছে।

ব্রাজিল থেকে চিনি আমাদানী সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক মীর জহুরুল ইসলাম এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

চাষীদের টাকা প্রাপ্তীতে বিলম্বের কারণ জানতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অর্থ বিভাগের পরিচালক একেএম দেলোয়ার হোসেন এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি মিটিং এ আছেন বলে জানান।

ফরিদপুর সুগার মিলস লি: এর ব্যবস্থাপক মো: আকমল হোসেন মুঠোফোনে জানান, উপর মহল থেকে সময় মতো টাকা না পাওয়ার কারণে চাষীদের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয় নাই। চলতি বছরের ২ মে থেকে চাষীদের টাকা পরিশোধ করার কাজ পূণরায় শুরু হবে। এসময় তিনি আরও জানান বাংলাদেশর বাজারে চিনি দাম অনেক কম। এক কেজি লবণের দাম ৪৫ টাকা হলে এক কেজি চিনির দাম আরও বেশী হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 75
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান