আজ: ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

`ফণী’ আঘাত হানতে পারে আগামীকাল সন্ধ্যায় : দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক । বাংলালাইভটোয়েন্টিফোর.কম

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ৬টা নাগাদ বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকাসমূহে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এনামুল হক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি এখন আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তিসঞ্চয় করে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আমাদের সার্বক্ষণিক আপডেট দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ আগামীকাল শুক্রবার দেশব্যাপী মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।’

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিপিপির (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) হেডকোয়ার্টার এবং উপকূলীয় ১৯টি জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এসব জেলার উপজেলা পর্যায়েও নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। রেডক্রিসেন্টের নিয়ন্ত্রণকক্ষও খোলা হয়েছে। উপকূলীয় আর্মি স্টেশনগুলোতেও ঢাকা থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারা প্রস্তুতি রেখেছে। সিপিপির ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাঁরা প্রস্তুত আছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা এরই মধ্যে মাইকিং করে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছেন। মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এসব জেলার প্রশাসকদের কাছে ২০০ মেট্রিকটন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে পাঁচ লাখ করে টাকাও দেওয়া হয়েছে। ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্যালাইনের জন্য সুপেয় পানির ট্রাক পাঠানো হয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 11
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান