আজ: ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

নাটোরের লালপুর ধন্য করে এলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনাম

হাফিজ–নাজনীন ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রনে

জাহিদুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক । বাংলালাইভটোয়েন্টিফোর.কম

নাটোরের লালপুর থানার ধুপইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠজুড়ে ছিলো যেন ঈদের আনন্দ। রোজার ঠিক আগের দিন শ’তিনের দু:স্থ মানুষের মাঝে এই আনন্দ টুকুই তুলে দিয়েছিলো হাফিজ – নাজনীন ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের হাত ধরেই গ্রামবাসী প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের হাত থেকে পেয়েছিলেন চাল,ডাল,তেলসহ শুকনো খাবার। এমন আয়োজন নিয়ে উচ্ছসিত গোটা লালপুরবাসী। যে আলোচনার ঢেউ খেলে গেছে গোটা নাটোর জেলায়।

এমনটাই বলছিলেন লালপুরের রঘুনাথপুরের কলেজ শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘আমাদের লালপুর বাসীর জন্যে দিনটি ছিলো আসলেই একটি খুশির দিন,আনন্দের দিন। হাফিজ-নাজনিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা,ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান,ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আনিসুর রহমানের জন্যে গর্বিত নাটোর। গর্বিত লালপুর – বাগাতিপাড়ার জনগন। তারা ছিলেন বলেই আজ এতগুলো মানুষ খাবার সামগ্রী পেলো।তারা যেভাবে আমাদের সুখ, দু:খের খবর রাখেন তেমনি ভাবে যদি অন্যরা একটু হলেও পাশে থাকতেন তাহলে বদলে যেতো আমাদের জনপদ। বদলে যেতো লালপুর – বাগাতিপাড়ার জনগনের ভাগ্য।

একই সুরে অভিন্ন কথাই বলছিলেন গৃহবধু জিনাত আরা বেগম।

আসলে হাফিজ-নাজনীন ফাউন্ডেশন মানেই তো মানুষের পাশে মানুষ।এই ফাউন্ডেশনের কল্যানেই আমরা কাছে পেলাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের।বাড়তি পাওনা হিসেবে জমা রইলো প্রতিমন্ত্রীর ভালোবাসা আর দু:স্থদের জন্যে বরাদ্দ সীমার বাইরে ঘর নির্মান করে দেবার আশ্বাস।এর আগে এই ফাউন্ডেশন ঘূর্নিঝড়ের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছে। প্রচন্ড শীতে অমুল্য উপহার হিসেবে পেয়েছে শীতবস্ত্র।

গত সোমবার নানা ব্যস্ততা ছাপিয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান দিনটি রেখেছিলেন নাটোরবাসীর জন্যে।

তাদের গর্বিত সন্তান হাফিজ-নাজনিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা,ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের বিশেষ অনুরোধে প্রতিমন্ত্রী সরকারি সফরে এদিন যান নাটোরের লালপুরে।সেখানে গিয়ে একাত্ন হন সাধারণ মানুষদের সাথে।

তাকে কাছে পেয়ে যেমন উচ্ছসিত হন এলাকার মানুষ,তেমনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য হিসেবে পাশে পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান অনেকেই।

সালামপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান আজ যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে শুকনো ও অন্যান্য খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তার কৃতিত্ব হাফিজ-নাজনিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা,ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান,ও ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট,আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আনিসুর রহমানের।

তাদের কারনেই আজ লালপুর বাগাতিপাড়ার জনগন কাছে পেয়েছে প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমানকে।

হাফিজ – নাজনীন ফাউন্ডেশন এভাবেই জনগনের কথা ভাবে,জনগনের কথা বলে।তাদের সুখে দু:খে পাশে থাকে- বলছিলেন রফিকুল ইসলাম।

দুর্যোগ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,দু:স্থ মানুষদের মাঝে ঈদ উপহার,কিংবা চাকরিসহ প্রান্তিক মানুষদের নানাভাবে সহায়তা করে এই হাফিজ – নাজনীন ফাউন্ডেশন এখন সারাদেশেই পরিচিত এক নাম।

সেই ফাউন্ডেশনের অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান নাটোরের লালপুরের মাটিতে পা রেখেই গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি।নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ এবং পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের (বিপিএম পিপিএম বার) কে নিয়ে নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেড প্রাঙ্গণে স্থাপিত শহীদ স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

পরে নাটোরের লালপুর উপজেলার ধুপইল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি প্রশংসা করেন হাফিজ –নাজনীন ফাউন্ডেশনের।

তিনি বলেন, ঢাকায় বসে এতদিন হাফিজ-নাজনীন ফাউন্ডেশনের সমাজসেবা মূলক কাজের প্রশংসা তিনি শুনেছেন। আজ নিজে এসে প্রত্যক্ষ করে গেলেন এই ফাউন্ডেশনের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আর আস্থা। সত্যিকার জনসেবার জন্যে প্রয়োজন এমন দরদী মনোভাব।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন,হাফিজ-নাজনিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা,ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান অসম্ভব গুণী একজন মানুষ। তিনি অশান্ত লক্ষীপুরকে পরিণত করেছেন শান্তির নগরীতে।

তাঁরই ছোঁয়ায় বদলে গেছে ঢাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।তিনি মানুষের কথা ভাবেন। আপনাদের কল্যানের কথা ভেবেই আমাকে নিয়ে এসেছেন নাটোরে।আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি হাফিজ-নাজনিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা,ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের প্রতি।তাদের ভালোবাসার টানেই আজ আমি আপনাদের মাঝে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান, নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, লালপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানিন দ্যুতি ও হাফিজ-নাজনিন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আনিসুর রহমান।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, ঢাকার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান আমার ব্যাচমেট। আমি এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসে দেখলাম,তিনি কতটা মানুষের কথা ভাবেন।সত্যিই তিনি সৌভাগ্যবান। আজ তারই অনুরোধে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান।তিনি নিজের হাতে এখানকার দু:স্থ মানুষদের মাঝে তুলে দিয়েছেন চাল,ডাল,তেলসহ শুকনো খাবার।

সত্যিই লালপুর গর্বিত তার প্রিয় সন্তান পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের জন্যে।

নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন,পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান আমারো ব্যাচমেট।তিনি পেশাগত গন্ডির বাইরে নিজের জন্মস্থানের মানুষের কথা ভাবেন।তাদের কল্যানে নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন।এটাই সত্যিকার দেশপ্রেম।

পরে মোড়দহে হাফিজ- নাজনীন ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গনে অনুরূপ কর্মসূচীতে যোগ দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান।

সেখানেও মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় সিক্ত হন তিনি।

হাফিজ-নাজনিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা,ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন,এই ফাউন্ডেশনের ভূমি আজ ধন্য।ভবিষ্যতে এই এই মোড়দহকে গড়ে তোলা হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিসৌধ টুঙ্গিপাড়ার আদলে।

এখানে একদিন দেশবরেন্য গবেষকরা আসবেন। এখানে প্রশান্তির নীড়ে থেকে গবেষণা করবেন।এই হাফিজ –নাজনীন ফাউন্ডেশনের ভবন থেকেই এই অঞ্চলে ছড়াবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেনতার আলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 3.9K
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।