আজ: ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

হাঁস পালনে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের ছকিমুদ্দি!

মোঃ মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম ।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের পানাতি পাড়া গ্রামের মৃত খয়বর আলীর পুত্র মোঃ ছকিমুদ্দি (৪০)।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছকিমুদ্দি অর্থের অভাবে লেখাপড়া করতে পারেননি। কোন কর্মদক্ষতা বা অন্য কোন পেশা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকায় হাঁস পালনে মনোনিবেশ করেন।

জানা যায়, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া ছকিমুদ্দি লেখাপড়া না জানায় বা অন্য কোন পেশা সম্পর্কে অবগত না থাকায় জীবন জীবিকা নির্বাহের তাগিদে প্রাথমিকভাবে ৪০টি হাঁস হাট থেকে কিনে এনে পালন শুরু করেন।

শত অভাব অনটনের মাঝেও খেয়ে না খেয়ে তিনি হাঁসের পরিচর্যা করেন। বর্তমানে তার
হাঁসের সংখ্যা মোট প্রায় ৫শ। তার মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০টি হাঁস ডিম দেয়।

এভাবে অনবরত ৩ মাস পর্যন্ত হাঁস ডিম দেয়। প্রতি হালি ডিম বিক্রি করেন ৪৮ টাকা। এতে প্রতিদিন তার আয় হয় গড়ে প্রায় ৭শ ২০ টাকা। একটি হাঁস পরিপক্ক হতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ মাস।

পরিপক্ক প্রতিটি হাঁস বাজারে বিক্রি করেন ২শ ৫০ থেকে ৩শ টাকা। পূণঃরায় হ্যাচারী থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে এনে পালন শুরু করেন।

প্রতিটি হাঁস পরিপক্ক করে গড়ে তুলতে খাদ্য ও ওষুধ বাবদ লাগে প্রায় ১শ থেকে ১শ ৫০ টাকা।
হাঁস খামারী ছকিমুদ্দি বলেন- আমি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে হাঁস পালন করে আসছি।

আমি নিতান্তই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। শত অভাবের মাঝেও না খেয়ে থেকেও হাঁসের পরিচর্যা করেছি। আল্লাহর রহমতে এই হাঁস খামার থেকে আয়কৃত

টাকা দিয়ে গরু কিনেছি, জমি কিনেছি, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বহনসহ পরিবারের যাবতীয় মৌলিক চাহিদা পূরণ করে আসছি।

তিনি আরও জানান, অন্যের জমিতে কৃষি কাজ না করে নিজেই হাঁস পালনের উদ্যোগ গ্রহন করে কোন অভাব ও অনটনের শিকার না হয়ে বেশ ভালোভাবেই দিন যাপন করছি।

এ ব্যাপারে তরুন হাঁস খামারী লিমন জানান- আমি ছকিমুদ্দি ভাইয়ের হাঁসের খামার দীর্ঘ দিন থেকে দেখে আসছি। আমি তার হাঁসের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেও ৫শ বয়সের হাঁসের বাচ্চা নিয়ে এসেছি।

বর্তমানে বাচ্চা গুলির বয়স ২৫ দিন হলো। একটি বাচ্চাও কোন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয় নি, দেখা যাক আল্লাহ ভরসা।

এব্যাপারে পাঁচগাছী ইউপি চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, আমি ছকিমুদ্দির হাঁসের খামার দেখে অভিভূত। সে এই হাঁস পালন করে বেশ ভালোভাবেই তার পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন যাপন করছে। আমি আশা করি তার এই সাফল্যে দেখে এলাকার অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে হাঁসের খামার করে বেকারত্ব দূর করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 10
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।