আজ: ২০শে জুন, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

আর কত প্রতারিত হবে কৃষক?

অলোক মজুমদার, চিতলমারী । বাংলালাইভটোয়েন্টিফোর.কম

মাছের ভাতে বাঙালি প্রবাদটি ভুলতে বসেছে দেশবাসী । নদী বলতে এখন মরা গাঙ।দেশি মাছের নেই সমারোহ।পুকুর ভরা মাছ,গোলা ভরা ধান ক্ষনার বচনে আমরা শুনি।তবে অবাক করে এ বছর ধানের ফসল ভালো।সবুজের সমারোহ ছিলো চারিদিকে ।মন ছুঁয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ ফসল দেখে।এমন ফসল কৃষকের গোলায় উঠে গেছে ।

বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ফলন ভালো। তাইতো কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি।কিন্তু একটু একটু করে চিন্তার ভাজ জমতে শুরু করেছে কৃষকের কপালে ।
চিতলমারী উপজেলার ৭ ইউনিয়নের কৃষকের ধান চাষ তাদের প্রধান ফসল।এ ফসলের উপর নির্ভর করে সারা বছর চলে কৃষক পরিবার ।নতুন ধানের পিঠা উৎসব করে মনের সুখে।

বিখ্যাত গানের কলি” সবার কপালে সুখ সয়না”তেমনি একটুএকটু করে সুখ হারিয়ে যাচ্ছে গরীব কৃষকদের ।ফলন আশানুরূপ হলেও মূল্য গত বছর থেকে তিনের দুই । ৬২শতাংশের এক বিঘার ধান ঘরে তুলতে খরচ হচ্ছে৭৫০০–৮০০০টাকা ।শ্রমিকের প্রতিদিনের দাম তিন মিল খাবার বাদে ৭০০–৮০০টাকা ।ফকিরহাট শ্রমিকের বাজার থেকে দাকোপ,কয়রা,চালনা,বৈঠাকাঠা,দিনাজপুর ,নওগাঁ, পিরোজপুর, বরিশাল, চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে আগত শ্রমিকরা জানান,মালিকরা ধান ঘরে তোলার জন্য বেশি দামে আমাদের নিচ্ছে ।

চিতলমারীতে ৭ ইউনিয়নে ২১ ব্লকে হেক্টর জমিতেধান চাষ হয়েছে ।বড়বাড়িয়াতে৬৫৫ একর ,হাড়িয়ারঘোপে ১৮৫ একর,সন্তোষপুর৭৯০একর ,শ্রীরামপুর ৩৩১০ একর ,কলাতলা ১৩৫৮ একর,মাছুয়ারকুল১৮৭৭একর,বড়বাক ৬১৭একর, কুরালতলা ১৩৩৩একর, রহমতপুর১২৯৬একর,হিজলা১৩৪৬একর,শান্তিপুর ১১৯৭একর, শৈলদাহ ১৩০৯একর, রায়গ্রাম ৩৮০৩একর, চরবানয়ারী৭০৪একর ,খড়মখালী১০৫০একর,শিবপুর ৬৬৭ একর চরডাকাতিয়া৫৫৫একর, সদর ২০৭৪একর, কচুরিয়া ৯৬৩একর,দড়িউমাজূরী ১২২২একর সহ অন্যান্য ব্লকে চাষ হয় ২৯৮৯৭.১একর জমিতে।তার মধ্যে ২৮৪৯১.৪৫ একরে হাইব্রিড ধান,৪৮১.৬৫ একরে উফশী জাতীয় এবং বাকী ৯২৪ একরে স্থানীয় ধান চাষ হয় । আনুমানিক ৮০হাজার ৯৫০মেট্রিকট্রন ধান উৎপাদন হলেও সরকার ধান কিনবে৪০৩ মেট্রিকট্রন ।সারা বছরের খাবার ধান রেখে বাকী ধান চলে যাচ্ছে সুদে মহাজন,ফড়িয়া,দালালদের হাতে।ফলে কৃষক পাবেনা ন্যায্য দাম।

আক্ষেপের সুরে সন্তোষপুর, বাবুয়ানা,হালিশহর,খাসেরহাট,খিলিগাতী, শ্রীরামপুর এলাকার কৃষকা জানান ৪৭০– ৪৮০টাকা মন ধান বিক্রি করে শ্রমিকের দাম দিয়ে লাভের মুখ দেখছি না।এই অবস্থা যদি থাকে তবে চাষাবাদ ছেড়ে দিতে হবে।মাছের মতো ধানে লোকসান হলে আমরা পরিবার নিয়ে বাঁচবো কিকরে?
সরকার বলছে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবে খাদ্যঅধিদপ্তর।সেই আশায় গুড়ঃ বালি।সরকার ধান কেনে মিলমালিক নামক বড়লোক কৃষকেদর কাছ থেকে এমন রাগ ঝাড়লেন সন্তোষপুর নিবাসী হরেন্দ্র নাথ বৈরাগী ।তিনি বলেন কষ্টে উৎপাদিত ধান জলের দামে বিক্রি করে দিলাম ।

চিতলমারী থানা খাদ্য পরিদর্শক আদরী ব্রক্ষ্ম জানান ,সরকার এ বছর কেজি২৬ টাকা দরে ধান ক্রয় করবে। সরকারী মূল্য১০৪০টাকা।ধান ক্রয় এখনো শুরু হয়নি।তাই সাময়িক আসুবিধায় আছে কৃষক সমাজ ।


ইতি মধ্যে কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্য দামের বদলে পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছে ।বাখরগঞ্জ বাজারের ধান ব্যবসায়ি পার্থ মজুমদার, তাপস মজুমদার,জাহাঙ্গীর শেখ,এমদাদ শেখ,রবিউল মাঝিশহীদুল শেখ জানায় আমরা ধান আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাই।মিল মালিকরা যে দাম দেয় আমরা সেই ভাবে দাম দেই।আমরা যে রকম দামে কিনি সৈই দাম দিই।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধান গুদামজাত করছে।নাম প্রকাশ করার শর্তে অনেকে জানান কাটিপাড়া প্রাইমারি স্কুলের পুরাতন বিল্ডিং ধান রাখার কাজে বর্তমান ব্যবহার হচ্ছে ।কৃষকদের কৃষিকার্ড কৌশলে হাতিয়ে সরকারের কাছে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে ।সরকার ধান কিনলে আমরা সঠিক মূল্য পেতাম।প্রশাসনের এদিকে লক্ষ্য দেবার দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি আফিসার জানান সরকার শ্রীগ্রই ধান কিনবে।এই আবস্থার পরিবর্তন খুব শীঘ্রই কেটে যাবে। সরকরী গুদাম নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ।মাইকিংয়ের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 13
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।