আজ: ২০শে জুন, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

মির্জাগঞ্জের মেন্দিয়াবাদ গ্রামের বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা

মোঃ কামরুজ্জামান বাঁধন, মির্জাগঞ্জ ।

ঘূর্নিঝড় ফণী’র প্রভাবে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪১/৭ নং পোল্ডারের মেন্দিয়াবাদ এলাকার অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে পাানি প্রবেশ করে দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চরখালী, মেন্দিয়াবাদ, হাজীখালী ও রানীপুর নিয়ে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৩ শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ে, বিভিন্ন গনমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫ মে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) মোঃ জাহিদ ফারুক (শামীম)।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) মোঃ জাহিদ ফারুক (শামিম) উপজেলার পায়রা নদীর পশ্চিমে বরগুনা-চান্দখালী-সুবিদখালী-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল মহাসড়ক সহ অত্র এলাকার বসবাসরত জনসাধারনের জান-মাল রক্ষার জন্য এবং বন্যায় যাতে আর কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে লক্ষ্যে অচিরেই পায়রা নদীর পাড়ে টেকসই বেড়িবাধঁ নির্মানের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মান কাজ শুরু করেছে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড।

৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৩২০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মান হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। বাঁধ নির্মান শেষ হলে মেন্দিয়াবাদ ও চরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরখালী সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্লুইচগেটসহ অন্তত ৩ শতাধিক বাড়িঘর ও গাছপালা রক্ষা পাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিয়ারসহ মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী,ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজিজ হাওলাদারসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যরা সরেজমিনে গিয়ে বাধঁ নির্মানের ব্যাপারে জমির মালিকদের সাথে কথা বলে জমি নির্ধারন করেন বাধেঁর কাজ শুরু হয়।

পায়রা নদী থেকে পশ্চিমে ৫শত ফুট রেখে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাধঁ নির্মান কাজ শুরু করা হয়।

এতে এ ইউনিয়নের ৫ গ্রামের ফসলসহ জানমালের রক্ষা পাবে। মেন্দিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ,বেল্লাল হোসেন ও নার্গিস বেগম বেড়িবাঁধ নির্মানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারবো,পানিতে আমাদের কোন ফসল নষ্ট হবেনা,পানির ভয়ে আমাদেরকে ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবেনা, বর্তমানে নির্মিত বেড়িবাঁধ যাতে ভবিষ্যতে ভেঙ্গে না যায় সেজন্য উন্নত মানের পাইলিংয়ের ও দাবী জানান তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক বছর ধরে পায়রা নদী ভাঙনের কারনে শত শত বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

গত বছরও বর্ষা মওসুমে এ এলাকা ভেঙ্গেছে। তবে পায়রার ভাঙ্গনের কারনে ইতিমধ্যেই মেন্দিয়াবাদ গ্রামটি আজ বিলীনের পথে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাধঁ নির্মানের কাজ শুরু করায় আমরা আনন্দিত।

কাজটি যথাসময়ে শেষ হলে আউশ মৌসুমে মাঠে ধান চাষসহ গ্রামবাসী উপকৃত হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ফণী’র প্রভাবে মির্জাগঞ্জের মেন্দিয়াবাদ ও রানীপুর গ্রামের

বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার খবর শুনে আমি ও ইউএনও সাহেবকে নিয়ে ঘটনা স্থলে যাই। মাননীয় পানি সম্পদ প্রতি মন্ত্রীর নির্দেশে বাধেঁর কাজ শুরু হয়েছে।

বাধঁ নির্মান শেষ হলে পায়রা নদীর পানিতে আর কোন গ্রাম প্লাবিত হবে না আশা করছি। তবে মির্জাগঞ্জের ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ ইউনিয়ন পায়রা নদী তীরবর্তী।

তাই ভাঙ্গনের ঝুকিঁও বেশি। মেন্দিয়াবাদ এলাকার পরে আয়লা কানকি রামপুর গ্রামের বেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 52
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।