আজ: ২০শে জুন, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন

তাসনিমুল হাসান, ইবি । বাংলালাইভটোয়েন্টিফোর.কম

একটি রূপকথার বাস্তব অনুগল্পের পটভূমি রচিত হয়েছিলো ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে।কারণ,সেই দিনটি ছিলো আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের রোমাঞ্চকর প্রথম দিন।সেদিনের কথা স্মরণ হলে আজো মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরন এক অজানা অনুভূতিতে আন্দোলিত হয়।

ছোট বেলায় মায়ের দেখানো ক্যাম্পাস স্বপ্নের ঘোরা পত্তন শুরু হয়েছিলো কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে।তখন থেকেই নিজেকে একটু একটু করে প্রস্তুত করছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নামক স্নায়ুযুদ্ধে সার্ভাইব করার জন্য।আর সেই স্বপ্ন পূর্ণতা পায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে।

পরিচিত মানুষগুলোকে ছেড়ে ১৪ জানুয়ারি পা বাড়িয়ে ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় নামক স্বপ্নের আঙিনার উদ্দেশ্যে।১৫ তারিখের সেই রাতটা ছিলাম আমার এক বন্ধুর মেসে।আর সেই রাতটা কেটে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথম দিন কী করব তার রঙিন কল্পনা আঁকতে।

অতঃপর সেই কাঙ্ক্ষিত দিন।সকাল নয়টায় চলে আসি ক্যাম্পাসে।তবে ডিপার্টমেন্টে যাওয়ার পর কেমন যেন একটা নার্ভাসনেস কাজ করছিলো।সেখানে আমার মত অনেকেই করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে অথচ কেউ কারো সাথে তেমন কোন কথাই বলছে না।আর এর মাঝে কিছুক্ষণ পরপরই বড় ভাইয়েরা আসছে পরিচিত হতে এবং এক এক করে সকলেই তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিচ্ছে।

অবশ্য এক ঘন্টার মাঝে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার পরিচয় পর্বের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।পরিচিত হওয়ার এই নতুন ধারা সেদিন আমার বেশ ভালোই লেগেছিল।

দশটায় আমাদেরকে নিয়ে বাসানো হয় ১৩৬ নম্বর কক্ষে।তখন নিজের কাছেই বিশ্বাস হচ্ছিলো না যে আমি স্বপ্নের সেই কক্ষে বসে আছি।এরপর কিছুক্ষণের মাঝেই সেখানে এক এক করে উপস্থিত হলেন ডিন,চেয়ারম্যান এবং বিভাগের অন্য শিক্ষকরা।কোরআন তেলাওয়াত করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নবীন বরনের প্রথম পর্ব।তারপর এক এক করে সকলের সাথে সংক্ষিপ্ত পরিচয় পর্ব শেষ করেন শিক্ষকরা। পরিচয় পর্ব শেষে নবীনদেরকেও বলা হয় তাদের অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য।কিন্তু,অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেমন যেন কথাগুলো জড়িয়ে ফেলছিলো।তারপর কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মঙ্গলার্থে বিভিন্ন রকম মোটিভেশানাল বক্তব্য দেন।এরপর মিষ্টিমুখ করানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সেদিনের নবীন বরন।

আজকে যখন সেদিনের কথা মনে হয় তখন নিজের অজান্তেই হাঁসি পায়।সেদিন যাদের সাথে কথা বলতে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগেছিলাম আজ সেই এক একটা মানুষকেই বলা যায় নিজের অন্য একটা কার্বন কপি।যাদের সাথে ক্যাম্পাসের আমতলা,ডায়না চত্বর,অডিটোরিয়াম কিংবা বটতলাসহ ক্যাম্পাসের ১৭৫ একরের সর্বত্রই আমাদের বিচরণ।

লেখক : শাহীন আলম

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।