আজ: ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

আমাগো আবার কিসের ঈদরে বাজান!

অনিমেষ দাস, সিংগাইর ।

এভাবেই টলমল চোখে কথাগুলো বলেছিলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার অঙ্গ প্রতিবন্ধী মালেকা বেগম।

মালেকা বেগম (৫৪) একসময় স্বামী, সংসার সবই ছিলো তাঁর।এখন তিনি সব হারিয়ে রিক্ত হয়ে জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে, ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশাহিসেবে বেছে নিয়েছেন।তিনি বলেন একটি হাত নেই তাতেও সমস্যা ছিলো না যদি ডান পা’ টি ভালো থাকতো তাহলে, আমি আবার আগের মত কাজ করে উপার্জন করতাম।

উল্লেখ্য ১৯ বছর আগে গৌওর সাহার চালের মিলে কাজ করতে গিয়ে ভয়ংকর দূর্ঘটনার শিকার হোন মালেকা বেগম। সুদীর্ঘ ২ মাস চারদিন বিভিন্ন হাসপাতালসহ ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর, সারাজীবনের মতো অঙ্গ প্রতিবন্ধী হয়ে বাড়িতে ফিরেন।হাসপাতালে খরচও কম হয় নি! একলক্ষ ত্রিশ হাজার খরচ হয়েছিল।

এর মধ্যে গৌওর সাহা চালের মিলের মালিক মাত্র ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসা বাবদ দেন। যা ছিল অতি নগন্য! বাকিটা এলাকার সর্বস্তরের মানুষ আর্থিক সহায়তা করে হাসপাতালের বিল ও ঔষধের যাবতীয় বিল পরিশোধ করেন।

মালেকা বেগমের পিতার নাম হোসেন ব্যাপারী। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

৫-৬-২০১৯ইং রোজ বুধবার ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে কেমন কাটছে মালেকার ঈদ উৎসব, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বাংলালাইভকে কান্নাভেজা মায়াবি কন্ঠে উত্তর দেন, আমাগো আবার কিসের ঈদরে বাজান! সকালে বাসিভাত খেয়ে প্রতিদিনের মতো আজকেও ভিক্ষা করতে এলাকায় যাই। কারো বাড়িতে খিচুড়ি, কারো বাড়িতে সেমাই খেয়ে পার হয়ে গেছে দিন।

নিজ বাড়িতে ঈদ উপলক্ষে তেমন কিছুই রান্না করতে পারেন নি মালেকা বেগম!

উল্লেখ্য তাঁর নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই। সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে চরভাকুম গ্রামে একটি ছোট ঘর বানিয়ে থাকেন। চরভাকুমের ঐ এলাকাটি বস্তি বাড়ি হিসেবে পরিচিত।ভিক্ষাবৃত্তির উপার্জিত টাকা কী করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বাংলালাইভকে জানান, তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার পেছনেই বেশিরভাগ টাকা শেষ হয়ে যায়। মায়ের জন্য একজন অঙ্গ প্রতিবন্ধী মেয়ের এমন দায়িত্ব বোধ সমাজের অনেক শিক্ষিত ও বিত্তশালী মানুষদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে শিখিয়ে দিচ্ছে মাতৃভক্তি কাকে বলে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 444
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান