আজ: ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

হার না মানা সেই নারী নাপিত ‘শেফালী’ পাচ্ছেন দুর্যোগ সহনীয় ঘর!

প্রশংসায় ভাসছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনাম

মো: সোহেল ইসলাম । বাংলালাইভ২৪.কম

ঝালকাঠির সেই  ‘হার না মানা’ নারী নাপিত শেফালী রানী শীলের পাশে দাঁড়ালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান এমপি।

 কাঠালিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা দোগনা বাজারের একমাত্র নাপিত শেফালী রানী শীল। প্রায় দুই যুগ ধরে এলাকার লোকজনের চুল কাটছেন তিনি।

সাধারণত বাংলাদেশে পুরুষরা নাপিতের কাজ করলেও প্রতিবন্ধী স্বামী,সন্তানদের জীবন আর জীবিকার তাগিদে এই পেশায় আসতে হয় শেফালীকে।

সেই শেফালীকে বাড়ি করে দেবার ঘোষনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন খাস জমি বন্দোবস্ত দেবার জন্যে। সেখানেই মন্ত্রনালয় সম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মান করে দেবে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি।

আগামী সোমবার মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে শেফালীর পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে যাবার কর্মসূচীর কথাও জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান এমপি।

তিনি জানান, প্রত্যন্ত গ্রামে একজন নারীর জন্য এমন একটি পেশা বেছে নেওয়া বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জের। তা সত্বেও তিনি প্রথাগত পেশার ধারণা ভেঙ্গে জীবন ও জীবিকার তাগিয়ে নাপিতের কাজ বেছে নিয়েছেন।কেবল তাই নই,এর বাইরে দোকানে দোকানে পানি সরবরাহ করে সেই অর্থ দিয়ে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করছেন।

এটাই আমার কাছে অসাধারণ ও প্রেরণাদায়ক মনে হয়েছে।

তিনি জানান,সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে বিবিসি বাংলার পেইজে এই ‘হার না মানা’ নারী নাপিত শেফালী রানী শীলের ওপর প্রতিবেদন দেখে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি তার পাশে দাঁড়াতে। প্রাথমিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেফালীকে ১০ হাজার টাকা নগদ বরাদ্দ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা,মানবতার জননী,জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমরা এই সংগ্রামী নারীকে একটি বাড়ি নির্মান করে দেবো।

আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী সেইসব দু:স্থ মানুষদের মন্ত্রনায়ের পক্ষ থেকে বাড়ি নির্মান করে দেই,যাদের অন্তত দুই শতাংশের মতো জায়গা আছে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি,শেফালী রানী শীলেও সেটাও নেই।

তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যদি সরকারিভাবে জায়গা সুবিধাজনক স্থানে পাওয়া না যায় তবে আমি নিজেই ব্যক্তিগত তরফে সেই জায়গা কিনে দেবো।

যে কারনে আমি নিজেই পিরোজপুর যাবো। কারন শেফালী রানী শীলরা নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক। তাকে নিজে গিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাবো তার সাহসী জীবন সংগ্রামের জন্যে।

শনিবার সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান তার ফেসবুক পেইজ থেকে ‘হার না মানা’ নারী নাপিত শেফালী রানী শীলকে সহায়তা করার বিষয়ে পর পর দুটো পোষ্ট শেয়ার করেন।

বিবিসি বাংলার সাংবাদিক শাহনেওয়াজ রকিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিবিসি বাংলার ভিডিও সংবাদটি শেয়ার করে প্রথম পোষ্টে তিনি লেখেন, ‘ঝালকাঠির শেফালী রানী শীল আমারও মা। বাংলার সাহসী ও সংগ্রামী জননীর এক অনবদ্য প্রতিচ্ছবি।


কাঠালিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা দোগনা বাজারের একমাত্র নাপিত শেফালী রানী শীল। প্রায় দুই যুগ ধরে এলাকার লোকজনের চুল কাটছেন তিনি। চেষ্টা করছেন সন্তানদেরকে মানুষের মত মানুষ করার।


সশ্রদ্ধ সালাম ও অভিবাদন এই নারীকে। মানবতার জননী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সংগ্রামী এই নারীকে সম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা একটি

 উন্নত মানের টেকশই ও দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি তৈরি করে দেবো। ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে।অভিনন্দন শাহনেওয়াজ রকিকে।তৃণমূল থেকে অসাধারণ মানবিক একটি স্টোরী তুলে আনবার জন্যে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেখা এই প্রতিবেদনটি আমাকে দারুন ভাবে স্পর্শ করেছে। ইতিমধ্যে আমি কথা বলেছি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের সঙ্গে। নির্দেশনা দিয়েছি আমার মন্ত্রণালয় কে। আসুন আমরা যে যার অবস্থান থেকে শেফালী রানী শীলের মত মানুষদের পাশে। দাঁড়াই মানবতার পাশে দাঁড়াই’।

পরে আরেকটি পোষ্ট দেন।সেখানে তিনি বলেন, ‘মানবতার জননী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সংগ্রামী এই নারীকে সম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় একটি উন্নত মানের দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি তৈরি করে দেবো।

ইতিমধ্যে আমি কথা বলেছি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের সঙ্গে। নির্দেশনা দিয়েছি আমার মন্ত্রণালয় কে। আসুন আমরা যে যার অবস্থান থেকে শেফালী রানী শীলের মত মানুষদের পাশে। দাঁড়াই মানবতার পাশে দাঁড়াই’।

তারপরেই প্রসংসায় ভাসতে থাকেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার পোষ্ট গুলো ভাইরাল হতে থাকে। অনেকে তাকেমানবতার ফেরীওয়ালা হিসেবে বর্ননা করে অভিনন্দন জানান।

বিবিসি বাংলার সাংবাদিক শাহনেওয়াজ রকি জানান,আমার একটি রিপোর্টের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার। আমি আনন্দিত। যেদিন ওই নারীর ঘর তৈরি হবে এবং সেই ঘরে উঠবেন সেদিন বিবিসি বাংলা আরেকটি প্রতিবেদন করবে বলেও জানান রকি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 890
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান