আজ: ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

জাবিতে সংঘর্ষের মধ্যে এক পুলিশ অফিসারের মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন!

আরিফুজ্জামান উজ্জল, জাবি । বাংলালাইভ২৪.কম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মিষ্টির দোকানে কথা কাটাকাটির জের ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থালে বঙ্গবন্ধু হলের দুই ছাত্রলীগ কর্মী অন্তত ১২ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ অন্তত ৬০ জনের মত আহত হয়েছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উঁচু বটতলার একটি দোকানে মিষ্টি খেতে যায় বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ৪৬তম ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের দ্বীপ বিশ্বাস ও বাংলা বিভাগের আলিফ হাসান দীপু।

এ সময় মওলানা ভাসানী হলের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ কাপালীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে দ্বীপের। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দ্বীপ ও দীপুকে চড়-থাপ্পড় মারে সৌরভ। খবর পেয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা লাঠি, চাপাতি, রড, রামদা সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বটতলায় মিলিত হলে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এমন অবস্থায় সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে একজন বৃদ্ধা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচু বটের রাস্তা ধরে বাড়ী ফিরছিলেন। কিন্তু নিচু বটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এবং উচু বটে মওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে বৃদ্ধা মাঝ থেকে ভয়ে কোনদিকে যেতে পারছিলেননা। অসহায় বৃদ্ধা সাহায্যের আশায় অনেকের কাছে অনুরোধ করলেও কেউ এগিয়ে আসে নি।

এমতাবস্থায় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এ এফ এম সায়েদের নজরে আসে দৃশ্যটি। যখন অন্যান্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যস্ত তখন তিনি এগিয়ে যান বৃদ্ধাকে সাহায্য করতে। তিনি বৃদ্ধাকে হাত ধরে সংঘর্ষের মধ্যে থেকে বের করে বাড়ীর পথে এগিয়ে দেন। বাংলালাইভের প্রতিবেদক আরিফুজ্জামান উজ্জল এই অসাধারণ মুহুর্তটির ছবি মোবাইলের ক্যামেরায় ধারণ করেন।

এসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই অনন্য দৃষ্টান্ত দেখে অনেকেই প্রসংশা করেছেন। পুলিশ অফিসারের পরিচয় সম্পর্কে জানা গেছে, তার নাম এ এফ এম সায়েদ। তার বয়স ৩৭ বছর। তিনি খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দ্বায়িত্বরত আছেন।

এসময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যখন অসংখ্য অভিযোগ, তখনি এমন একটি কাজ করে মানবিকতা এবং সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সায়েদ। পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতির ভিড়ের মাঝেও ভালো ও উদার মনের পুলিশ সদস্যও আছে। এমন পুলিশ বেঁচে থাকুক অনেক বছর।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 7.9K
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান