আজ: ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

পথে পথে বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকে চলেছেন রফিকুল

বাংলালাইভ ডেস্ক ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলো ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু প্রেমী রফিকুল ইসলাম রংপুর থেকে পায়ে হেঁটে এখন গোপালগঞ্জে। ৫৯ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন রিক্সাচালক।

চলতি বছরের ১৩ জুন রফিকুল ইসলাম রংপুর জেলা প্রশাসকের অনুমতিপত্র নিয়ে তার পদযাত্রা শুরু করেন। এ দীর্ঘ সময়ে ১১ জেলার ২৬টি স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি অঙ্কন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করেন তিনি।

রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখন তিনি গোপালগঞ্জে। সিডিউল অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকছেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায়। শুক্রবার টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি জিয়ারত করবেন।

এরপর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন রফিবুল ইসলাম। আগামী ৪ আগস্ট গণভবনে বঙ্গবন্ধুর ছবি অঙ্কন ও কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের মাধ্যমে তার পদযাত্রা শেষ করবেন।

বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও স্বাধীনতা অর্জনের কথা স্মরণ করে জেলায় জেলায় বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা ও সমাধি জিয়ারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে তার এ পদযাত্রা।

রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পর থেকেই তিনি জাতির পিতার ভক্ত। এরপর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা শুরু করেন। তার স্বপ্ন ছিল রংপুর থেকে পায়ে হেঁটে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে যাবেন এবং পথে পথে বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকে নতুন প্রজন্মের মাঝে সোনার বাংলার চেতনা ছড়িয়ে দেবেন।

রফিকুল ইসলাম রংপুর শহরের তাজহাট বাবুপাড়া এলাকায় স্ত্রী রশিদা বেগম, দুই মেয়ে ও তিন ছেলেসহ বাবাকে নিয়ে বসবাস করেন। পরিবারের দেখাশোনার ভার ছেলেদের হাতে দিয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে ঘর থেকে বের হন তিনি।

মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধে যেতে পারেননি রফিকুল ইসলাম। এই আক্ষেপ সব সময় তাকে তাড়া করে বলে জানান।

রং এর খরচ তিনি কিভাবে চালান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিজের কিছু গচ্ছিত টাকা আর বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সাহায্য সহযোগিতায় তিনি এ খরচ চালিয়ে আসছেন।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (শিক্ষা ও আসিটি) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব বলে শেষ করা যাবে না। রফিকুল ইসলাম পায়ে হেঁটে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকছেন। এটা শুনে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমাদের শিশু মনে বঙ্গবন্ধুকে আঁকা দরকার। তার যে প্রজ্ঞা, দেশের প্রতি ভালবাসা, এসবে অনুপ্রাণিত হয়ে সোনার বাংলা গড়ার জন্য আমাদে বঙ্গবন্ধুকে মনে রাখা দরকার। আমি রফিকুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান

আপনার ই-মেইল আইডি গোপন রাখা হবে।