আজ: ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

সামান্য কিছু ভুলে কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কা

বাংলালাইভ ডেস্ক ।

অভিজ্ঞতার অভাবে কোরবানির পশুর চামড়া এমনভাবে কেটে ফেলেন যে, ওই চামড়াটি নষ্ট হয়ে তার আর কোন বাণিজ্যিক মূল্য থাকে না। চামড়াটি তখন আর বিক্রি বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যায় না। প্রতিবছর সামান্য এ ভুলের কারণে প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

লেস কাট বা নাইফ স্পটের (মাংস থেকে চামড়া ছাড়ানোর সময় চামড়ায় ছুরির খোঁচা) কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া সময়মত চামড়ায় লবণ না দেয়া ও অযত্নের কারণেও নষ্ট হয়ে যায় অনেক চামড়া।

এ অবস্থা এড়াতে ও চামড়াকে ভাল রাখতে এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া ছাড়ানোর কাজে সরু মাথাযুক্ত বা চোখা ছুরি ও অতিরিক্ত ধারালো ছুরি যেন অবশ্যই ব্যবহার করা না হয়। তুলনামূলক কিছুটা ভোঁতা বা বাঁকানো মাথার ছুরি ব্যবহার করলে চামড়া নিরাপদ থাকবে বলে মনে করেন তারা।

বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানীর সময় সঠিক ছুরি না ব্যবহারের কারণে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়ে থাকে।

কোরবানিতে যারা নিজেরাই এবার পশুর মাংস কাটাকাটি করবেন তাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ।

সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, কোরবানি ছাড়াও সারাবছর আমরা চামড়া কিনে থাকি। কিন্তু দেখা যায় লেস কাট বা নাইফ স্পটের কারণে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চামড়ায় নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে বিদেশে চামড়া রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তাই যেসব ছুরির মাথা ভোঁতা সেগুলো দিয়ে গরুর চামড়া ছাড়ানো উচিত।

এছাড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবের কথা জানিয়ে এই চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই গরমের সিজনে কোরবানির ঈদ হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত গরমের কারণে চামড়া নষ্ট হচ্ছে। তাই সময়মতো লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ না করা হলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, পর্যাপ্ত লবণের অভাবে যেসব চামড়া নষ্ট হবে, সেগুলো কোনোভাবেই কেনা হবে না।

সাখাওয়াত উল্লাহ আরও বলেন, সঠিকভাবে সঠিক সময়ে চামড়া লবণ না দেওয়ার কারনে গত বছর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এটি দেশের ক্ষতি। এই জন্যই আমরা মনে করি, সরকারের উচিত প্রত্যেক জেলায় জেলায় চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও প্রচারের ব্যবস্থা করা। আমরা কয়েক বছর আগে এভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম।

কোরবানি ঈদের সময় লেস কাটের কারণে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায় তবে অফ সিজনে অর্থাৎ বছরের অন্যান্য সময়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চামড়া এ কারণে নষ্ট হয়ে যায় বলেও জানা তিনি।

হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, লেস কাটের কারণে সারাবছরই চামড়া নষ্ট হয়। তবে কোরবানির সময় তার চেয়ে বেশি নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, কারণ কোরবানির সময় অদক্ষ লোকজন পশুর চামড়া ছাড়ায়। বছরে একবার চামড়া ছাড়াতে হয় বলে তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে। তাই এই সময় নষ্ট হয় বেশি। এছাড়া কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা করার কারণেও চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ট্যানার্স এ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণের ফলে গেল বছর ৩০-৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া কোরবানির পর দ্রুত ও সঠিক উপায়ে চামড়া সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের পরামর্শ ব্যবসায়ীদের।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। এ বছর ১ কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। যেখানে গত বছর কোরবানি হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ পশু।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান