আজ: ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

কুয়াকাটার সুরক্ষা বাধেঁর কাজ শেষ না হতেই জিও উিউবের বালু বেড় হয়ে ভেসে যাচ্ছে সাগরে

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া ।

উত্তল সমুদ্রের ঢেউয়ের তান্ডবে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙ্গন রক্ষায় পরিক্ষামুলক সুরক্ষা বাধেঁর কাজ শেষ না হতেই জিও উিউবের বালু বেড় হয়ে ফের সাগরে ভেসে যাচ্ছে।

এদিকে জিও টিউব থেকে বালু বের হয়ে যাবার জন্য পর্যটকদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে দ্বায় এড়িয়ে যাচ্ছে পাউবো কর্তপক্ষ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নব্বই ভাগ কাজ শেষ হওয়ার দাবী করলেও বাস্তবতবে হয়েছে ৭০ ভাগ বলে দাবী করেছে স্থানীয়রা। তবে সৈকতের সুরক্ষা বাধ নির্মাণ কাজের শুরুতেই ওঠে অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রিক মিডিয়ায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছে ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে সৈকতে এলোমেলো ভাবে জিও টিউব বসানোর কারনে সৌন্দর্য হারিয়ে গিয়ে ভূতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পাউবো কলাপাড়া সার্কেল সুত্রে জানা গেছে ,সমুদ্রে সৈকত ভাঙ্গন রোধে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৬০ মিটার দৈর্ঘ্য মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের জন্য ১৫ এপ্রিল কার্য্যাদেশ দেওয়া হয় বি.জে. জিও টেক্্রটাইল লিমিটেডকে। যা চলতি সালের ৩০ জুন শেষ হবার কথা ছিল। সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকার পিকনিক স্পট থেকে শুরু করে কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার জিও বাগে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা তৈরীর কাজ চলছে। এ রাস্তায় ৫৬টি জিও টিউব ও ৮ হাজার পিচ জিও বস্তা দেয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিটি জিও টিউবের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৪ মিটার। প্রতিটি জিও বস্তার সাইজ হবে পিপি সাইজ। প্রতিটি জিও টিউবের রিভার সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার প্রস্থ এবং কান্টি সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার উচু ব্যাগ দিয়ে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা বা সৈকত সুরক্ষা বাধ নির্মান করার এমন নির্দেশনা কোটেশনে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করা থেকে এ পর্যন্ত ৪০ টির মত টিউব তৈরী করতে পেরেছেন। যেসব টিউব তৈরী করা হয়েছে বেশিরভাগ টিউবের বালু বের হয়ে যাওয়ার কারনে নাজুক হয়ে গেছে। ২.৭৪ মিটার উচু স্থলে পশ্চিমাংশের টিউব গুলো অধিকাংশই ২মিটারেরও কম উচু করা হয়েছে। ৮ হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জিও বস্তা তৈরী করলেও তাও আবার সমুদ্রের বালু ভরার কারনে বস্তা থেকে বালু বের হয়ে গেছে এমনটাই দেখা গেছে।

ট্যুরিজম ব্যবসায়ী হোসাইন আমির বলেন. সৌন্দর্য বিহীন এমন সুরক্ষা বাধে তিনিসহ বিনিয়োগকারী ও স্থানীয়রা অশাহত হয়েছেন। নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই টিউবের বালু বের হয়ে গেছে এমন সুরক্ষাবাধ তারা আশা করেনি। কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করা হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর কাউন্সিলর মো.শাহ আলম হাওলাদার অভিযোগ করেন, বেরি বাধের সাথে গর্ত করে মোটা বালুর পরিবর্তে জিও টিউবে লোকাল বালু ভরা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করার কারনে পাউবো কলাপাড়া কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সরকারী কাজে বাধাদানের অভিযোগ এনে নোটিশ দিয়েছে। সঠিক ভাবে কাজ না করে উল্টো তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মুনিবুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টা অবগত হয়েছি। নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। লোবাল বালু ব্যাহার না করার জন্য নিষেদ করেছি। এসময় প্রকৌশলী মহাদয় এ বিষটি নজরদারিতে রাখবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মাদ অলিউজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, পাইপ দিয়ে বালু ভরার সময় কিছু লোকাল বালু পানির সাথে টিউবে ডুকে পরেছে। জিও টিউব থেকে বালু বের হয়ে যাওয়া প্রসংগে তিনি বলেন , পর্যটকরা টিউব কেটে ফেলার কারনে বালু বের হয়ে গেছে। তবে সৈকত সুরক্ষা বাধের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান