আজ: ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

নীলদরিয়াতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকার বরাদ্দ

আশিকুর রহমান সরকার, পীরগঞ্জ।

রংপুর জেলাধীন পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নে নীল দরিয়ার অবস্থান। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক নীলদরিয়াতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ১২শ শতাব্দির মাঝা-মাঝি উত্তরের জনপদে এক সময় প্রবল পরাক্রমশালী রাজাগণ ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। তাদের বংশের শেষ রাজা ছিলেন নীলাম্বর। নীলাম্বরের অনেক রাজধানী ছিল। সেগুলোর মধ্যে উন্নতম রাজধানী ছিল পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের নীলদরিয়া।

জাতীয় সংসদের স্পীকার পীরগঞ্জ আসনের এমপি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ৩০ জুলাই/১৯ আনুষ্ঠানিক ভাবে নীল দরিয়া পর্যটন আকর্ষন কেন্দ্র উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ১২’শ শতাব্দিতে বাংলায় যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাব ছিল তখন পাক ভারতের রাজধানী ছিল গৌড়ে।

লক্ষণ সেন ছিল গৌড়ের রাজা। তারই অধীনে ছিলেন পীরগঞ্জের কিংবন্দীর রাজা নীলাম্বর। তিনি গৌড়ের রাজা লক্ষণসেনকে কর দিতেন। সে যুগে হিন্দু রাজা-বাদশারা প্রজাদের উপর নিয়মিত কর তুলতেন। কর দিতে না পারায় প্রজাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাতো।

দিনের পর দিন যখন হিন্দু রাজাদের অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে। তখনই ১৭ জন পীর আউলিয়া আর্বিভাব হয় পাক ভারতে। এই আউলিয়াগণ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে ইসলাম ধর্মের কথা প্রচার করতে থাকেন।

এ খবর গৌড়ের রাজার কানে পৌঁছালে তিনি মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সে সময় যুদ্ধ হতো তীর ধনুক দিয়ে। সেই যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে গৌড়ের রাজা পরাজিত হন এবং গৌড় মুসলমানদের দখলে আসে।

১৭জন আউলিয়ার মাঝে শাহ ইসমাইল গাজী (রাঃ) অন্যতম বলে জানা যায়। তিনি বড়দরগায় আস্থানা স্থাপন করেন। সেখান থেকেই কর আদায়ের জন্য লোক পাঠান হিন্দু রাজা নীলাম্বরের কাছে তার রাজধানী চতরায়।

কিন্তু নীলাম্বর মুসলমানদের কর দিতে অস্বীকার করেন। এর পরবর্তি পদক্ষেপ হিসাবে শাহ্ ইসমাইল গাজী (রাঃ) নীলাম্বর রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। শত্রু পক্ষের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য রাজা নীলাম্বর রাজধানীর ৫৬ একর জমির চতুরপার্শ্বে ৮০ হাত প্রস্থ এবং ৮০ হাত গভীর একটি পরিখা খনন করেন।

তারই পরিখার মাটি দিয়ে রাজধানীকে সুরক্ষিত করার জন্য চারপার্শ্বে উঁচু করে ১৪ হাত প্রস্থের ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। প্রাচীরের দক্ষিণে রাখা একটি মাত্র সদর দরজা। এই দরজা বন্ধ করা হলে রাজধানীর ভেতরে প্রবেশ করার কোন সুযোগ ছিল না। গত ১৮/৮/১৯ (সোমবার) নীল দরিয়া পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এডিসি (জেনারেল) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রংপুর।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসক টি এম এ মমিন, পীরগঞ্জ ভুমি কর্মকর্তা সন্জয় কুমার মহন্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, চতরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক শাহীন, চতরা ইউনিয়ন ভুমি সহঃ কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম, সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 54
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান