আজ: ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইংরেজি
শিরোনাম

মুমিনুলের ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা

স্পোর্টস ডেস্ক । 

মুমিনুল হক কি কবিতা পড়েন? তাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি কখনো। কিন্তু কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কথায় কথায় যে প্রত্যয়ের কথা শোনালেন তাতে মনে পড়ে যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার কয়েকটি লাইন…

‘আমি প্রস্তুত হচ্ছি

সবকিছুর নিজস্ব প্রতিশোধ নেবো

আমি আবার ফিরে আসবো

আমার হাতিয়ারহীন হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়েছে, শক্ত হয়েছে চোয়াল

মনে মনে বারবার বলেছি, ফিরে আসবো!’

হ্যাঁ, এখনো মুমিনুল নিজেকেই বারবার সেই প্রতিজ্ঞার কথা শোনান। তালেগোলে কীভাবে কীভাবে যেন তার পিঠে লেগে গেছে টেস্ট ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের ট্যাগ। কিন্তু ওটা কিছুতেই মেনে নেননি ২৮ ছুঁই ছুঁই মুমিনুল। আবার জাতীয় দলের সীমিত ওভারের ফরম্যাটে নিয়মিত খেলোয়াড় হয়ে ফেরার প্রত্যয় বাজতে থাকে তার কণ্ঠে।

একজন গতকাল প্রশ্নের মধ্যে তাকে টেস্ট বিশেষজ্ঞ বানিয়ে দিলেন। সেই প্রশ্নের মধ্যে কি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়ার গন্ধ পেলেন মুমিনুল? নইলে কেমন যেন প্রতিবাদের সুরেই কেন বলবেন, ‘(নিজেকে) টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে আমি ওভাবে মেনে নেইনি।’ তবে ভারতের বিপক্ষে নভেম্বরের জোড়া টেস্ট দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ঢুকে পড়ার অপেক্ষা তার মনে রোমাঞ্চ জাগায়, ‘আমার মনে হচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়াতে আমাদের দেশের জন্য ভালো হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব খুশি। কেননা টেস্ট ক্রিকেট আমাদের দেশে ওভাবে ফোকাস হয় না। ওদিক দিয়ে চিন্তা করলে আমাদের দেশের জন্য খুবই ভালো হয়েছে।’

এর সঙ্গে ৫ দিনের ক্রিকেট বাদে অন্য ফরম্যাট নিয়ে নিজের ভাবনাকে প্রবলভাবে তুলে ধরতেও এতটুকু দ্বিধা নেই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সবসময় বসে থাকলে হয় না। যেসব জায়গায় উন্নতি দরকার সেখানে উন্নতি করতে আপনাকে অনুশীলন সবসময়ই চালিয়ে যেতে হবে। এ কারণেই আমি বাড়তি অনুশীলন করি। আমার কাছে মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে যদি আমি খুব ভালো গড় নিয়ে যাই, বা বিপিএলে ভালো অবস্থান নিয়ে যাই, যদি ভালো করতে পারি তাহলে ভালো একটা সুযোগ আছে।’

সুযোগটা ফেরার। যেমন ফিরেছিলেন ২০১৫-এর পর গত বছর ওয়ানডেতে। কিন্তু সেই সেপ্টেম্বরে আবুধাবিতে এশিয়া কাপের গ্রুপ ও সুপার ফোর পর্বে সুযোগ পাওয়া দুই ম্যাচে এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের স্কোর ছিল যথাক্রমে ৯ ও ৫। এরপর আর সুযোগ মেলেনি। ২০১৪ পর্যন্ত ৬টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর ওই সংস্করণে আর সুযোগই মেলেনি। ২৮ ওয়ানডেতে ৩ ফিফটিতে ২২.২৮ গড়ে ৫৫৭ রান নিয়ে অনেক পিছিয়ে পড়া একজন মুমিনুল।

কিন্তু টেস্টে এর ব্যতিক্রম ছিলেন এই সেদিনও। মাঝে ৬ ইনিংসে একটিও ৩০ প্লাস ইনিংস নেই। তারপরও টেস্টে বাংলাদেশের দেখার মতো খেলোয়াড় হিসেবে বলতে হবে তাকে। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছিলেন ২০১৮- এর জানুয়ারিতে। একই বছর আছে আরও দুটি সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের গোড়ায় স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের পরই ছিল তার গড়। ৩৫ টেস্টের পর অবশ্য সেই গড় নেমে ৪১.৯৩-এ। কিন্তু ৮টি সেঞ্চুরি ও ১২টি ফিফটি নিয়ে এখনো বাংলাদেশের টেস্ট দলে প্রশ্নহীন জায়গা ছোটখাটো গড়নের এই টেস্ট ক্রিকেট ডিনামাইটের।

স্টিভ রোডস তেমন সময় পাননি। তবে তার আগের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে শেষটায় সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। সে কারণেই কি না নতুন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নিয়ে কাল তেমন কোনো উচ্ছ্বাস ঝরল না মুমিনুলের কণ্ঠে, ‘টেকনিক্যাল কোনো বিষয়ে কথা হয়নি। হাই হ্যালো হয়েছে। দেখা যাক পরে কী হয়।’ তবে কোচ যত ভালোই হোক না কেন নিজে যা শিখেছেন এতদিন সেটাতেই বড় ভরসা ব্যাটসম্যানের, ‘সবার একজন ব্যক্তিগত কোচ থাকে। আমি ওনার কাছ থেকে সবকিছু নেব, এমন না বিষয়টা। তিনি যে পরামর্শ দেবেন, যেটা আমার জন্য দরকার সেটা নেব। আমার যদি ভালো লাগে তাহলে ওভাবে নেব।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আফগানিস্তানের সঙ্গে আগামী মাসে তার প্রিয় ভেন্যু চট্টগ্রামেই একমাত্র টেস্ট। মাঝে ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিসিবি একাদশের হয়ে চার দিনের টুর্নামেন্ট খেলে এসেছেন। খেলার মধ্যে আছেন। নিজস্ব নিয়মিত অনুশীলন ও এই খেলার মধ্যে থাকা মুমিনুলকে দিচ্ছে বাড়তি বিশ্বাস। সামনে অনেক টেস্ট খেলতে হবে। সেই প্রসঙ্গে মুমিনুলেন উচ্চারণ, ‘এই জায়গায় মানসিকভাবে অনেক শক্ত হতে হয়। শারীরিকভাবেও সামর্থ্যবান হতে হয়। আশা করি আমার তেমন কোনো সমস্যা হবে না। এটায় আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। কয়েক দিন আগে ভারতে তিন-চারটা চার দিনের ম্যাচ খেলেছি। খেলার মধ্যে থাকলে বিষয়টা সহজ হয়। অত কঠিন হয় না। জিনিসটা কঠিনভাবে নিলে কঠিন, সহজভাবে নিলে সহজ।’

আর ভারত সফরের আগে আফগানদের বিপক্ষে খেলাকে বড় লড়াইয়ের একরকম প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছেন মুমিনুল, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই ম্যাচ খেলা একটা ভালো প্রস্তুতি। আমাদের সবার জন্যই ভালো সুযোগ।’ এর সঙ্গে সামনের দিকে তাকিয়ে হালকা রোমাঞ্চে বলে যান, ‘ম্যাচ খেললে পারফর্ম করার সুযোগ বাড়বে আপনার। ফলাফল ভালো করার সুযোগ থাকে, দলকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে যাওয়ারও সুযোগ থাকে। এদিক দিয়ে চিন্তা করলে আমার মনে হয় এটা খুব ভালো একটি সুযোগ।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানান